কুৎসা, ভয়ভীতি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে

লমান নির্বাচনী পরিবেশে নারী প্রার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের ওপর সহিংসতা, ভয়ভীতি, অনলাইন হয়রানি ও সামাজিক অপপ্রচার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব ঘটনা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে এবং একটি সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী: প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের প্রথম প্যানেলে নির্বাচনী সহিংসতা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা মাঠ পর্যায়ে নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য ও চরিত্রহননের প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও পর্যালোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় প্যানেলে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ও ঘোষিত অঙ্গীকারে নারীর অধিকার, সমান প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়গুলো কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত বৈষম্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর সীমিত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলীয় সংস্কার, জবাবদিহি এবং বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী রাশনা ইমাম, সাবহানাজ রশীদ দিয়া, অধ্যাপক নাহরীন খান, অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী, রুফায়দাহ পন্নী, ফিরোজ আহমেদ ও সামান্তা শারমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ আসনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, দলীয় মনোনয়নে বৈষম্য দূরীকরণ, নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধের দাবিতে ফোরাম ইতোমধ্যে একাধিকবার নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই আলোচনা সভা সে ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।

-সাইমুন