বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ফটোকার্ড বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই মেগা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে এনসিপির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দলটি।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনে বিএনপির অনড় অবস্থানের কারণেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেসবুক পোস্টে দলটি উল্লেখ করে: “যেহেতু বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেয়নি, তাই সংহতি প্রকাশ ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না।”
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এনসিপির নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেছেন। একইসাথে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন।
সকালে এনসিপির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, বিএনপি যদি সংস্কার পরিষদে অংশ না নেয়, তবে তারাও পরবর্তী পদক্ষেপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। দুপুরের ঘোষণার মাধ্যমে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।
নতুন সরকার গঠনের দিনেই মিত্র বা সমমনা দলগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিএনপির বিশাল বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ, অন্যদিকে এনসিপির মতো উদীয়মান শক্তির এই ‘বর্জন’ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার ওপর এই বর্জনের কী প্রভাব পড়ে এবং ভবিষ্যতে এনসিপির সাথে সরকারের সম্পর্ক কেমন হয়।