শ্রীনগরে আদালতের রায় অমান্য করে বসতভিটা দখলের অভিযোগ

কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা ও অবৈধভাবে সাইনবোর্ড টানানোর অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার ষোলঘর এলাকার পালবাড়ির বাসিন্দারা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পালবাড়ির বাসিন্দা কাজী লুৎফে হাবীব বলেন, আমাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা করছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তাদের ৮০ বছরের পুরনো পৈত্রিক বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। এসব নিয়ে আদালতে করা মামলার রায় ও বিভিন্ন আদেশ থাকার পরও আমাদের হয়রানির করছে। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি আমরা। তারা জানান, ষোলঘর পালবাড়িতে ২৪ শতাংশ জমির মালিকানা আছেনলুৎফে হাবীব, নাঈমা হাবিব, ইমরান হাবিব ও নাসিমা হাবিব এবং কিছু অংশের মালিক শারমিন রহমান ও কাজী রুবেল।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলেন, এই সম্পত্তিতে আমাদের পূর্বাধিকারীগন সিএস রেকর্ডীয় মালিনগনের ওয়ারিশদের নিকট থেকে হস্তান্তর সূত্রে মালিক হয়ে ১৯৪৩ থেকে বাড়িঘর নির্মান করে ভোগ দখল করছেন। একটি প্রভাবশালী মহল ২০০৭ সালের দিকে আমাদরে স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তির কিছু অংশে অন্যায়ভাবে রাস্তা নির্মানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই প্রভাবশালী মহল তৎকালীন জেলা প্রশাসককে দিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জ আদালতে দেওয়ানী মামলা করে। বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জ ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী ও একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী ডিক্রিমূলে উক্ত মামলাটি খারিজ করে দেয়। রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মুন্সীগঞ্জ আপীল দায়ের করলে অতিরিক্ত জেলা জজ বিগত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ও ১১ জুলা রায় ও ডিক্রিমূলে আপীলটি খারিজ করে দেন এবং নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।

বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের উল্লেখিত রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মুন্সীগঞ্জ মহামান্য হাইকোর্ট সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগের একটি একক বেঞ্চ বিগত ১৯ আগষ্ট ২০২৫ ইং তারিখে রায় ও আদেশমূলে ৭/২০০৭ সত্ত্ব মোকাদ্দমা পুন:বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে প্রচার করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায়ের কতিপয় পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে আমরা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল দায়ের করেছি। যাহা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে নালিশি সম্পত্তি সরকারের খাস সম্পত্তি এই মর্মে কোন সিদ্ধান্ত দেন নাই। রায়ে শুধুমাত্র উল্লেখ আছে যে, সরকার যদি উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে, নালিশি সম্পত্তি মালিক বিহীন পরিত্যাক্ত সম্পত্তি সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত দেওয়ানী আতালত উহা খাস সম্পত্তি হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় স্বত্ব মোকাদ্দমাটির বিচার নিস্পত্তির আগেই মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিগত ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখের রায় ও আদেশের অপব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বিগত ৮ জানুয়ারী রাতে আধাঁরে আমাদের সত্ব দখলীয় বসতবাড়ীর একটি ঘরের পাশে বেআইনী অনুপ্রবেশ করে একটি সাইনবোর্ড টানিয়েছে। যাতে যা লেখা রয়েছে তাতে আমরা মনে করি উক্ত সাইনবোর্ড উত্তোলন ও সাইবোর্ডের লেখাসমূহ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ গত ৯ আগস্ট এক রায় ও আদেশের পরিপন্থি এবং উক্ত লেখা সমূহ আদালত অবমাননার শামিল। রায়ের অপব্যাখ্যা করে উক্ত সাইনবোর্ড তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগনের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক কর্তৃক আমাদের জমিতে বেআইনী অনুপ্রবেশ করে উক্ত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো সম্পুর্ণ বেআিইনী ও আদালত অবমাননার অপরাধ এবং ন্যায় বিচার ও আইনের পরিপন্থি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূর মহল আশরাফী মোবাইল ফোনে বলেন, অবৈধ দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। সেখানে কিছু সরকারি খাস জমি রয়েছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড দিয়েছে। ওই ব্যক্তিদের মালিকানার পক্ষে কোন নথিপত্র বা আদালতের রায় থাকলে তাদেরকে নথিপত্র নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।