ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা আগামী মার্চে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবুকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানাবেন। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, ১৮ ও ১৯ মার্চ উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজা চার্লসের অতিথি থাকবেন প্রেসিডেন্ট টিনুবু ও ফার্স্ট লেডি ওলুরেমি টিনুবু। খবর বিবিসির।
৩৭ বছর পর এটি হবে নাইজেরিয়ার কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের যুক্তরাজ্যে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল ইব্রাহিম বাবাঙ্গিদা ব্রিটেন সফর করেছিলেন এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি টিনুবুর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, তবে তিনি এর আগেও রাজা চার্লসের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ২৮ সম্মেলনের ফাঁকেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রীয় সফরকে কূটনৈতিক ‘সফট পাওয়ার’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এর লক্ষ্য। এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাজ্য ও নাইজেরিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েছে, যা নাইজেরিয়াকে আফ্রিকায় যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান অংশীদারে পরিণত করেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব চুক্তিও স্বাক্ষর করে। সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে রাজকীয় শোভাযাত্রা, রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং রাজনৈতিক বৈঠকের আয়োজন থাকার কথা।
রাজা চার্লসের সঙ্গে নাইজেরিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কমনওয়েলথভুক্ত দেশটি সম্পর্কে তিনি একাধিকবার নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সিংহাসনে আরোহনের আগে প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে তিনি ১৯৯০, ১৯৯৯, ২০০৬ ও ২০১৮ সালে নাইজেরিয়া সফর করেন। ২০১৮ সালের সফরে তার সঙ্গে ছিলেন তখনকার ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা। এছাড়া ২০২৩ সালে নাইজেরিয়ায় ‘কিংস ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল’ (সাবেক প্রিন্সেস ট্রাস্ট) কার্যক্রম শুরু হয়, যার লক্ষ্য দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
-বেলাল হোসেন










