৫০ লাখ টাকা আটক প্রসঙ্গ ঘিরে বিতর্ক, ‘মিসকোট’ দাবি ইসি সচিবের

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত নেতা আটক সংক্রান্ত বক্তব্যকে ‘মিসকোট’ করা হয়েছে বলে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার মন্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার এখতিয়ার ও বক্তব্যের পরিপন্থী।
ইসি সচিব বলেন, “এখানে আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনাকে অপতথ্য প্রকাশের সঙ্গে তুলনা করে গণমাধ্যমকে যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।

এর আগে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপে তিনি বলেন, ভোটের সময় অর্থ বহনের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। অর্থের উৎস ও বৈধ ব্যবহার দেখাতে পারলে বড় অঙ্কের টাকা বহনেও বাধা নেই। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই। তবে সেই অর্থ যদি ভোটে প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা তদন্ত করে দেখবে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। অবৈধ প্রমাণিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
ভোটকালীন অর্থ বহনের সুনির্দিষ্ট সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা আটক বা জব্দ করেছেন, ব্যাখ্যাটা তাদের কাছ থেকেই চাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করে। দুপুরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক দেখানো হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, আটক নেতার কাছে থাকা অর্থ নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না; এটি তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আরও জানান, জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে বুধবার সকালে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং শেষে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান ও রাশিয়ার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তারা বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখান। ইসি সচিব বলেন, এই পদ্ধতিকে আরও নির্ভুল ও নিরাপদ করতে কমিশন কাজ করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাবন্দিরাও এই ব্যবস্থায় ভোট দিচ্ছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ১০ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৪ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন।

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিতদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন প্রবাসী ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৭ হাজার ৩২৭টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬টি দেশে পৌঁছেছে।

দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটারদের কাছেও ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ জন গ্রহণ করেছেন, ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১টি ব্যালট।

পোস্টাল ভোট বিডি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

_এজাজ আহম্মেদ/মামুন