ঝুঁকিতে অর্ধেক ভোটকেন্দ্র, নিরাপত্তায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা ইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার রয়েছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ইসির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ফোর্স প্রি-পজিশনিং ও ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা করছে। তিনি জানান, ন্যূনতম প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী কোথাও সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হবে, আবার কোথাও গ্রুপিং করে অতিরিক্ত ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকাতেও সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন, যার মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে; পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। উপকূলীয় পাঁচ জেলার ১৭ আসনে নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ সদস্যও মোতায়েন আছেন। এছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

নির্বাচনি অপরাধ দমনে মাঠে আছেন ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম এবং তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইতোমধ্যে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের কাছ থেকে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

_এজাজ আহম্মেদ/মামুন