ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেকোনো অনিয়ম, বিতর্ক বা অভিযোগ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে। নির্বাচনে অনিয়ম রোধে শক্ত তদারকির কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি জানান, জাতীয় সংসদ ৩৫০ সদস্য নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। আসন্ন নির্বাচনে ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিনি বলেন, হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ১২৭ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত ডাক ব্যালট চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্যও ডাক ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ একদিনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট চলবে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সমন্বিত ফল ঘোষণা করবেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২২০ জন রয়েছেন। এছাড়া ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং দেশীয়ভাবে ৮১টি সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সমন্বয়ে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদার ভূমিকা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও মন্তব্য করেন।
_এজাজ আহম্মেদ/মামুন










