সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের নকলা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ (সংসদীয় আসন ১৪৪) এ লড়াই হবে শেয়ানে শেয়ানে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর ধানের শীষ এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি’র দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) ১৪৪ সংসদীয় আসনে ২১টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৪। এখানে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ ও নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৮ জন; মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৪ জন।
এই আসনে সাতবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি এবং দু’বার জাতীয় পার্টি জয়লাভ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য, প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক ও তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার সাবেক ভিপি মু. গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কায়েশ এবং এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা প্রার্থী হয়েছেন। বিজয়ের ব্যাপারে চারজনই শতভাগ আশাবাদী। তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিকল্প থাকার কথা না থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার চিত্র অনেকটাই পাল্টেছে। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন এ আসনে বেশ জনপ্রিয় ও ভোট ব্যাংক তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে এখানকার রাজনীতিতে মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর গুণে তার ছেলে ফাহিম চৌধুরীর পাল্লাও বেশ ভারি। একদিকে জাহেদ আলী চৌধুরীর অবদানে ফাহিম চৌধুরীর অবস্থান যেমন শক্ত, তেমনি নিজ গুণেই সমৃদ্ধ হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। এ দুই তরুণ প্রার্থীই এবার ভোটারদের মূল আকর্ষণ।
এবারের নির্বাচনের হিসাব সম্পূর্ণই ভিন্ন। বিগত কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তারা সবাই নকলার বাসিন্দা ছিলেন। এবার নালিতাবাড়ীর সন্তান গোলাম কিবরিয়া হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। নকলার সন্তান ফাহিম চৌধুরী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। নালিতাবাড়ীতে ভোটের পরিমাণ বেশি হলেও নকলায় ভোটের পরিমাণ কম। এছাড়াও তরুণ ভোটাররা এবার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজে আসবে। অতীতের কর্মকান্ড, তারুণ্য, প্রচারণার কৌশল আর ব্যক্তিত্বের কারণে যিনি ভোটারদের মনে বেশি সাড়া দিতে পারবেন, তিনিই হবেন বিজয়ী।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত সময়গুলোতে তারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এমনকি জাতীয় পার্টিকেও দেখেছেন। এবার তারা নতুন কাউকে দেখতে চান। এছাড়াও নতুন ভোটারদের আকর্ষণও তরুণ কাউকেই।
ফাহিম চৌধুরী জানান, তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই বেশ সাড়া পাচ্ছেন। সব জায়গায় তার বাবা মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, সেসব এলাকায় তিনি কাজ করবেন। বিজয়ের ব্যাপারেও তিনি শতভাগ আশাবাদী।
গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী থাকবে না এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এতোদিন ভোটাররা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখেছে। এবার তারা নতুন কাউকে দেখতে চান। তাছাড়া খেলাধুলা, শিক্ষা-সংস্কৃতি সবক্ষেত্রে তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করে আসায় তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন বলেও জানান। বিজয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী।
-জাফর আহাম্মদ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)









