হকারদের থেকে বছরে ৩ হাজার কোটি চাঁদাবাজি হয়

বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১। যে শহরে হকারদের থেকে বছরে ৩ হাজার কোটি চাঁদাবাজি হয়। তারমধ্য ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয় বাস ও বেসরকারি গাড়ি থেকে। ৮২ ভাগ নারী হয়রানির শিকার হয় এই ঢাকা শহরে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব তথ্য উঠে আসে।

এক্সিস ট্রায়াংগেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইন্জিনিয়ার শাহজাহান আলম বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় আসলে এ সকল দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। সকলের জন্য মানবিক ও বসবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে ঢাকা শহর। যেখানে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, এই শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানির সুব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপন ও ফায়ার সেফটি থাকবে। থাকবে গ্রিন পার্ক, হাঁটা চলার সুব্যবস্থা এবং ঢাকার চতুর্দিকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হবে। ট্র্যাফিক ব্যবস্থা উন্নত ও জ্যামের বিড়ম্বনা থাকবেনা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহিদদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে কল্যাণের জন্য। সেকারণে, জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ঢাকা শহর ও বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব।’

‘ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চাই। আল্লাহ দয়া করে আমাদেরকে সুযোগ প্রদান করলে আমরা জাতিকে এমন একটি শহর ও দেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।’

ব্রি.জে. ( অব.) এ টি এম  জিয়াউল হাসান তার প্রেজেন্টশনে নানা রকম তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন কি করে ঢাকাকে বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহরে পরিণত করা সম্ভব। একই সাথে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,  বরিশাল, রাজশাহী,  খুলনা ও রংপুর বিভাগকে উন্নত ও  আধুনিক পর্যটন নগরীর সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত  করার কথাও জানান।

পাশাপাশি, ৬৪ জেলাকে যে প্রক্রিয়ায় সহজে সমৃদ্ধ ও আধুনিক করা যায় সেটাও উল্লেখ করা হয়। মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে ৭ টি পিলারের কথা বলা হয়।

বিআইপি সাবেক সচিব নগর পরিকল্পনাবিদ খন্দকার মো আনসার হোসাইন বলেন, ঢাকা শহরের ও বাংলাদেশের রাস্তাঘাট ও যানযট এর কারণ তুলে ধরেন। এক্সপ্রেস ওয়েগুলি কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গবেষণা ছাড়াই নির্মান করা হয়েছে ও হচ্ছে।  ফলে, কেবল অর্থেরই অপচয় হচ্ছে না বরং অবকাঠামো,  পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত, কৃষি জমির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি, সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। যেকারণে, প্রতিদিন দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের পরিবেশ ও রাস্তাকে সামনে রেখে বাস্তবসম্মত উপায়ে এসব সমস্যার সমাধান হবে।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ, অংশগ্রহণ করেন।

-সবুজ