সুদানের উত্তর ও দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্যে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ‘অপরাধমূলক হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়াদ।
শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুদানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে, ‘কিছু পক্ষের বিদেশি হস্তক্ষেপ’, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়াটে যোদ্ধা ও বিদেশি যোদ্ধাদের প্রবেশ সুদানের প্রায় তিন বছর ধরে চলা সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যদিও বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই বিবৃতি আসে এমন এক সময়, যখন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে-উত্তর কর্দোফানে বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আরএসএফের ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু। এর আগে উত্তর কর্দোফান জুড়ে মানবিক সহায়তা বহনকারী কনভয় ও জ্বালানি ট্যাংকারে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর একটি কনভয়েও হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত একজন নিহত হন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলা “সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক” এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক চুক্তির “চরম লঙ্ঘন”। তারা আরএসএফকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে মানবিক সহায়তা নিরাপদে পৌঁছাতে দেওয়ার দাবি জানায়। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে জেদ্দায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু পক্ষ রাজনৈতিক সমাধানের দাবি করলেও বাস্তবে অস্ত্র ও যোদ্ধা পাঠিয়ে সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করছে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে দারফুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ফাশের আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর কর্দোফানজুড়ে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী-দুই কোটিরও বেশি মানুষ—তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছে।
এদিকে, সুদানের সরকার অভিযোগ করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আরএসএফকে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। এ অভিযোগে গত বছর সুদান আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইউএই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যেখানে পশ্চিম দারফুরের মাসালিত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যায় ‘সহযোগিতার’ অভিযোগ আনা হয়। তবে ইউএই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-কে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও ইউএই-এর বিরুদ্ধে তুলেছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইউএই ইয়েমেন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে।
-বেলাল










