উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে আইএসআইএল বন্দিদের ইরাকে হস্তান্তর শুরু

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার হাসাকা প্রদেশের ঘুয়াইরান কারাগার থেকে তৃতীয় দফায় আইএসআইএল (আইএসিস) সংশ্লিষ্ট বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তর করেছে। শনিবার স্থলপথে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার এক প্রতিবেদক।

এই স্থানান্তর একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অংশ, যার আওতায় উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আটক আইএসআইএল বন্দিদের ইরাকি হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিতে যুক্ত রয়েছে সিরিয়া সরকার, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এবং যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর অর্জিত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন আটককেন্দ্র থেকে প্রায় ৭ হাজার আইএসআইএল বন্দিকে ধাপে ধাপে ইরাকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইরাক ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে আনা বন্দিদের বিরুদ্ধে দেশটির নাগরিকদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর সিরীয় সরকারি বাহিনী হাসাকা ও কামিশলি এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে, আর এসডিএফ পিছু হটছে।

শনিবার হাসাকায় সিরীয় সরকারের একটি প্রতিনিধিদল ও এসডিএফ মনোনীত গভর্নর নূর এদ্দিন আহমদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সরকারি ভবনে সিরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা প্রদেশটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, হাসাকা প্রদেশের আল-শাদ্দাদি এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ঘাঁটির আশপাশের বেশিরভাগ নজরদারি টাওয়ার খালি করা হয়েছে এবং একটি টাওয়ার থেকে মার্কিন পতাকাও নামানো হয়েছে। রানওয়েতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি বড় পরিবহন বিমান সেখানে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে পরে চলে যায়।

২০১৫ সালে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানো হলেও সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এখনো আইএসআইএল অবশিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে অভিযান, গোয়েন্দা সহায়তা এবং হাসাকা ও দেইর আজ-জোর অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

-বেলাল হোসেন