এপস্টেইন নথিতে নাম থাকায় ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির আর্থিক অপরাধবিষয়ক কৌঁসুলিরা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তার মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাংকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, রোববার সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাংকে মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। এপস্টেইন–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রকাশিত নথিতে ল্যাংয়ের নাম উঠে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। ৮৬ বছর বয়সী জ্যাক ল্যাং বর্তমানে প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট দ্যু মন্দ আরাব (আইএমএ)-এর সভাপতি। এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠার পর তাকে ওই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বুধবার তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।

ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ল্যাং একাধিকবার এপস্টেইনের কাছে আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাংয়ের নাম একটি অফশোর কোম্পানির নথিতে পাওয়া গেছে, যা এপস্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্যারোলিন ল্যাং একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং তিনি সোমবার স্বাধীন প্রযোজক ইউনিয়নের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ল্যাং অবশ্য এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে জেফ্রি এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্ককে দেহব্যবসায় যুক্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে জ্যাক ল্যাংয়ের নাম ৬০০ বারের বেশি উল্লেখ রয়েছে। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত-এমনটি নিশ্চিত করে না। ফ্রান্সের আর্থিক অপরাধবিষয়ক কৌঁসুলিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, জ্যাক ল্যাং ও তার মেয়ের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর কর জালিয়াতি থেকে অর্জিত অর্থ পাচার’-এর অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারো বলেন, “এই নথি থেকে যে তথ্যগুলো সামনে এসেছে, তা নতুন এবং অত্যন্ত গুরুতর। সেগুলোর গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।” তবে তিনি জানান, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইএমএ-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ১ কোটি ২৩ লাখ ইউরো বাজেটের অর্ধেক অর্থায়ন করে থাকে। বুধবার ফরাসি বেতার কেন্দ্র আরটিএল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যাক ল্যাং বলেন, “আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।” এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও স্লোভাকিয়ায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি তদন্ত ও চাপের মুখে পড়েছেন।

-বেলাল হোসেন