বিগ টেকের ৬০০ বিলিয়ন ডলারের এআই বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে

ছবি: রয়টার্স

২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। লাভজনকতা নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এই বিপুল বিনিয়োগ সফটওয়্যার ও ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানিগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। ২০০ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার অ্যামাজনের শেয়ার দর ৭ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট জানায়, চলতি বছর তাদের মূলধনী ব্যয় দ্বিগুণ হতে পারে এ ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৩ শতাংশ হ্রাস পায়। মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারও ১.৩ শতাংশ কমেছে।

তবে সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর নিম্নমুখী ছিল না। এনভিডিয়ার শেয়ার ৭ শতাংশ বেড়েছে, মাইক্রোসফটের শেয়ার ১ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার ৪ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৬ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ২ শতাংশ বেড়েছে, যদিও সপ্তাহ শেষে উভয় সূচকই নিম্নমুখী থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে অতিরিক্ত আশাবাদ থেকেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সানজ্যাক আলফার প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ওয়েলস বলেন, “এআই অবকাঠামো ঘিরে যে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতের আয় আগেভাগেই দামে প্রতিফলিত হয়ে গেছে। ঝুঁকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, ফলে এখন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমানোর দিকে ঝুঁকছেন।”

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং অবশ্য এআই খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক ও টেকসই বলে মন্তব্য করেছেন। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “চাহিদা আকাশচুম্বী, তাই বিনিয়োগ বৃদ্ধি যৌক্তিক।”

অন্যদিকে শক্তিশালী নতুন এআই মডেলের কারণে ডেটা ও অ্যানালিটিক্স খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। কানাডাভিত্তিক থমসন রয়টার্সের শেয়ার সপ্তাহের শুরুতে এক দিনে বড় দরপতনের পর শুক্রবার আরও ০.৭ শতাংশ কমেছে। লন্ডনভিত্তিক আরইএলএক্স-এর শেয়ার এক সপ্তাহে প্রায় ১৭ শতাংশ পড়ে গেছে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন।

এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সফটওয়্যার ও সার্ভিস সূচক চলতি সপ্তাহে প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়ে গেছে।

লন্ডনের সেন্ট জেমস’স প্লেসের ইকুইটি কৌশলবিদ কার্লোটা এসত্রাগেস লোপেজ বলেন, “এআই নিয়ে অতীতে যে খবর শেয়ারদর বাড়াত, এখন বিনিয়োগকারীরা সেগুলো অনেক বেশি সতর্কভাবে দেখছেন। শুধু বিনিয়োগের রিটার্ন নয়, কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই বাজার নেতৃত্ব সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকিও বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে।”

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো সম্মিলিতভাবে এআই খাতে ৬৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে পারে। এআই-নির্ভর শেয়ারের দরপতনের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও বিশ্ববাজার সূচক এই সপ্তাহে প্রায় ০.৩৩ শতাংশ কমার পথে।

বিশেষ করে ভারতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে সফটওয়্যার রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ার এক সপ্তাহে প্রায় ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত বিনিয়োগ, সীমিত বাজার নেতৃত্ব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এই তিনটি বিষয়ই এখন বিনিয়োগকারীদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

সাবরিনা রিমি/