সড়কপথের পর এবার সমুদ্রপথেও আধিপত্য বিস্তারে প্রস্তুত চীন। বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএটিএল (CATL) ঘোষণা করেছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে তাদের তৈরি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক জাহাজ সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লড়াইয়ে এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তি খাতে চীন তার একক আধিপত্যের নতুন বার্তা দিল।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইভি ব্যাটারির বাজারের প্রায় ৩৮ শতাংশই সিএটিএলের দখলে। তবে কেবল স্থলপথের যানবাহনেই সীমাবদ্ধ নেই প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সাল থেকেই তারা জাহাজে ব্যাটারি ব্যবহারের প্রযুক্তি নিয়ে নিরলস গবেষণা চালিয়ে আসছে। সিএটিএল জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৯০০টি নৌযানে ব্যাটারি ও শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মুকুটে সর্বশেষ পালকটি যোগ হয়েছে গত জুলাই মাসে। সিএটিএল-এর ব্যাটারি চালিত চীনের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ক্রুজ জাহাজ ‘ইউজিয়ান ৭৭’ (Yuxian 77) সফলভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এই সাফল্যই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে যে, আগামী ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে বড় আকারের বৈদ্যুতিক জাহাজ সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিতে সক্ষম হবে।
চীনের আধিপত্য ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা
বৈদ্যুতিক জাহাজ শিল্পে চীনের এই অগ্রযাত্রা কেবল একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং দেশটির রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ। পরিবেশবান্ধব নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে চীন এখন বৈশ্বিক নেতা হওয়ার পথে।
-
বিশাল ব্যাটারি ইকোসিস্টেম: বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ব্যাটারি নির্মাতার মধ্যে বেশির ভাগই চীনা। ফলে কম খরচে উন্নত মানের ব্যাটারি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে তাদের জাহাজ শিল্প।
-
সফল পরীক্ষা: সিএটিএল ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় তাদের বৈদ্যুতিক নৌযান চালিয়ে প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
-
সবুজ প্রযুক্তির প্রসার: ডিজেলচালিত জাহাজের তুলনায় বৈদ্যুতিক জাহাজ থেকে কার্বন নিঃসরণ হবে শূন্য, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সমুদ্রপথে নতুন চ্যালেঞ্জ
গবেষকদের মতে, নদী বা লেকের শান্ত জলে বৈদ্যুতিক জাহাজ চালানো যতটা সহজ, গভীর সমুদ্রে তা ততটাই চ্যালেঞ্জিং। নোনা জল, উত্তাল ঢেউ এবং দীর্ঘ দূরত্বের জন্য যে বিশাল ক্ষমতার ব্যাটারি প্রয়োজন, সিএটিএল এখন সেই প্রযুক্তিতেই শেষ মুহূর্তের কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী তিন বছরে সিএটিএলের এই উদ্যোগ সফল হলে বিশ্ব শিপিং শিল্পে আমূল পরিবর্তন আসবে। পণ্যবাহী বড় বড় কন্টেইনার জাহাজগুলো যখন ব্যাটারিতে চলতে শুরু করবে, তখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। আর এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চালকের আসনে থাকবে চীন।
-এম. এইচ. মামুন










