বিশ্বের শীর্ষ স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্ভাব্য একীভূকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি (ডব্লিউবিডি)-এর স্টুডিও ও স্ট্রিমিং সার্ভিস অধিগ্রহণে নেটফ্লিক্স কোনো প্রতিযোগিতাবিরোধী কৌশল ব্যবহার করেছে কি না তা যাচাই করতেই এই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)।
ডব্লিউএসজের দেখা একটি বেসামরিক সমনের (civil subpoena) মাধ্যমে বিচার বিভাগ অন্য একটি বিনোদন প্রতিষ্ঠানকে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘বহিষ্কারমূলক আচরণ’ (exclusionary conduct) সম্পর্কে তথ্য দিতে বলেছে। বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, নেটফ্লিক্সের কোনো কার্যক্রম কি বাজারে আধিপত্য বা একচেটিয়া ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার সক্ষমতা রাখে।
রিপোর্টে বলা হয়, প্রায় ৮২.৭ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ নিয়ে নেটফ্লিক্স ছাড়াও প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স আগ্রহ দেখিয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জনপ্রিয় কনটেন্ট লাইব্রেরি যার মধ্যে রয়েছে গেম অব থ্রোনস, হ্যারি পটার এবং ডিসি কমিকসের ব্যাটম্যান ও সুপারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজি এই আগ্রহের মূল কারণ।
বিচার বিভাগের সমনে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, এ ধরনের চুক্তি বিনোদন খাতে প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না। পাশাপাশি অতীতে স্টুডিও বা পরিবেশক সংস্থাগুলোর একীভূকরণ সৃজনশীল প্রতিভা ও শিল্পীদের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে এবং বিভিন্ন স্টুডিওর মধ্যে শিল্পীদের চুক্তির ধরনে কী পার্থক্য রয়েছে সেসব বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নেটফ্লিক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিয়মিত মার্জার পর্যালোচনার বাইরে কোনো আলাদা তদন্তের বিষয়ে অবগত নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করছে। নেটফ্লিক্সের পক্ষে আইনজীবী স্টিভেন সানশাইনও জানান, এটি একটি স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এবং আলাদা কোনো একচেটিয়া তদন্তের ইঙ্গিত তারা পাননি।
ডব্লিউএসজে জানায়, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ বিডও পর্যালোচনা করছে। তবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পরিচালনা পর্ষদ সেই প্রস্তাবকে “অপর্যাপ্ত” ও “শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থবিরোধী” বলে সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, প্যারামাউন্ট আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের টেন্ডার অফার বিষয়ে বিচার বিভাগের পর্যালোচনা শেষ করতে চাপ দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ শেষ হলে ১০ দিনের একটি অপেক্ষাকাল শুরু হবে, যার মধ্যে বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে প্রস্তাবটি প্রতিযোগিতার জন্য ক্ষতিকর কি না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই চুক্তি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেও তদন্তের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্রিটিশ রাজনীতিক ও সাবেক নীতিনির্ধারক দেশটির প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রকরাও নেটফ্লিক্স ও প্যারামাউন্ট উভয় পক্ষের বিড একসঙ্গে খতিয়ে দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারান্ডোসকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানিতে এই সম্ভাব্য চুক্তি বিনোদন খাতে প্রতিযোগিতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










