প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সুনীল কর্মকার কেবল একজন সুকণ্ঠী গায়কই ছিলেন না, বরং যন্ত্রসংগীতেও ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার আবেগময় কণ্ঠের জাদু যেমন শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত, তেমনি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম বাজাতেও ছিল তার অসামান্য দক্ষতা।
যেকোনো সংগীতের আসর একাই মাতিয়ে রাখার এক ঐশ্বরিক শক্তি ছিল এই গুণী শিল্পীর। বিখ্যাত বাউল সাধক ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগীতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন সুনীল।
জালাল খাঁর অসংখ্য কালজয়ী গানে সুরারোপের পাশাপাশি নিজের কণ্ঠেও সেগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। তবে কেবল অন্যের গান গেয়েই থেমে থাকেননি, নিজে রচনা করেছেন প্রায় দুই শতাধিক গান। তার সৃষ্ট এসব গান লোকসংগীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। গানের প্রতি তার টান ছিল জন্মগত। মাত্র সাত বছর বয়সেই সুরের মায়ায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন তিনি। সেই শৈশব থেকে শুরু হওয়া তার এই সুর-যাত্রা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে শ্রোতাদের।
মাহমুদ সালেহীন খান










