যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্কের চাপ সামলাতে না সামলাতেই এবার মেক্সিকোর উচ্চ আমদানি শুল্কে বড় সংকটে পড়েছে ভারতের একাধিক শিল্পখাত। ইস্পাত, অটোমোবাইল, অটো কম্পোনেন্ট, গার্মেন্টস, সিরামিক ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন রপ্তানিনির্ভর শিল্পে ব্যবসা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। মুম্বাইয়ের শিল্পপতি পঙ্কজ চাড্ডা গত চার দশক ধরে ইস্পাত উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান রপ্তানি বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর এই দুই দেশে তার রপ্তানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়ার পর তিনি মেক্সিকোকে বিকল্প বাজার হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও শুল্ক আরোপে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর আলজাজিরার।
২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়। এর ফলে হীরা কাটিং, চিংড়ি চাষ, কার্পেট ও টেক্সটাইলসহ বহু শিল্পে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবস্থার মধ্যেই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাইরে থাকা দেশগুলোর ওপর ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক কার্যকর করে। ভারত ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। মেক্সিকোর দাবি, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এড়াতেই মেক্সিকো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই মেক্সিকো শুল্ক নীতিতে কড়াকড়ি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ভারত মেক্সিকোতে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশ ছিল গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ। নতুন শুল্ক কাঠামোয় ইস্পাত রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ, অটো ও অটো কম্পোনেন্টে ৩৫ শতাংশ এবং গার্মেন্টস ও সিরামিকে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
রপ্তানি ধস সামাল দিতে ভারত সরকার সাম্প্রতিক বাজেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমিত পরিসরে দেশের বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি শিল্প সংগঠনগুলো মেক্সিকোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির দাবি জানিয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। অতিরিক্তভাবে এক বা দুইটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।
-বেলাল হোসেন










