যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লে অঞ্চলের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে: কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে তা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার হুমকির পরই দোহার পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা এলো।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা জানি যে, এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। তাই আমরা যতটা সম্ভব এই পরিস্থিতি এড়াতে চাই।”

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। সে সময় কাতারই মধ্যস্থতা করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিল।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি
গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হোয়াইট হাউস সোমবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমননীতি ঠেকাতে ইরানে বিমান হামলার কথা ভাবছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নরওয়েভিত্তিক এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা বিক্ষোভে ৬৪৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা ৬ হাজারেরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের বারবার হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌপরিবহনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক