১৫ শ্রমিক নেতার সম্পদ তদন্তে দুদকে আবেদন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক আন্দোলনের জেরে পরিস্থিতি এখন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। চলমান অস্থিরতা ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়ার অভিযোগে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ জন শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই ১৫ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও দুদকে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কর্মচারীরা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত এবং তাদের কারণে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো— বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা যেন সীমান্ত পার হতে না পারেন, সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও অবহিত করা হয়েছে।

এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বন্দরের কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে এসে দফায় দফায় বৈঠক করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলন বরদাশত করা হবে না।”

উপদেষ্টার আশ্বাসে শ্রমিকরা শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ও শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দুদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করলেও সরকার এই আন্দোলনের পেছনের ‘ইন্ধন’ খতিয়ে দেখতে একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

তদন্তের আওতায় আসা অন্য শ্রমিক নেতারা হলেন- মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

লামিয়া আক্তার