রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় খালেদা জিয়াকে: ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে আজ বুধবার রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোয়াজেন করা হয়েছে।
পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
আজ বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়িটি গুলশানে তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজা’য় (সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসা হিসেবে পরিচিত ১৯৬ নম্বর বাসা) পৌঁছায়। লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো কফিনটি যখন বাসভবনে প্রবেশ করে, তখন সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা দেয়। ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে ও কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে কফিনটি গুলশানে পৌঁছায়। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের শেষ বিদায়ের জন্য মরদেহটি কিছুক্ষণ সেখানে রাখা হবে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ‘ফিরোজা’ থেকে বেগম জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায়। আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। আজ ৩১ ডিসেম্বর সারা দেশে সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

-এম. এইচ. মামুন