জলকামান উপেক্ষা করে যমুনার সামনে সরকারি কর্মচারীরা

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রাকালে সরকারি কর্মচারীদের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। মিছিলটি শাহবাগ মোড় অতিক্রম করার সময় পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কয়েক হাজার সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জড়ো হন। ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রাথমিক শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে তারা থালা-বাটি হাতে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে রওনা হন।

আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশি বেষ্টনীর মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ শুরু করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন মিছিলকারীরা। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ ব্যারিকেড ভেঙে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দিয়ে ‘যমুনা’র দিকে এগিয়ে যান। বর্তমানে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, “সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নির্বাচনের আগেই এই গেজেট জারি করতে হবে।” নেতারা আরও জানান, গত কয়েকদিনের টানা কর্মবিরতির পরও সরকারের কোনো দপ্তর থেকে আলোচনার প্রস্তাব না আসায় তারা এই কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শহীদ মিনারের সমাবেশে প্রাথমিক শিক্ষকরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তাতে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

বর্তমানে যমুনা ও মিন্টো রোড এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আন্দোলনকারীরা রাস্তার ওপর বসে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

লামিয়া আক্তার