শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১৬

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ‘স্লেজিং’ অর্থাৎ বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে গালাগালি করাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন শিক্ষক রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, খেলা পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলা বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগ মুখোমুখি হয়। প্রথমে ব্যাট করে বাংলা বিভাগ লোকপ্রশাসন বিভাগকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দ্বিতীয় ইনিংসে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি লোকপ্রশাসন বিভাগ। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থান করা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্লেজিং করা হলে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই দফায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর আলম। অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী ও প্রভাষক আব্দুল বাসিত বর্তমানে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলা বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাদের মধ্যে সোহানুর ও যশমন্তকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের আহতরা হলেন- ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ফারদিন ইসলাম ও মাহফুজ, এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক মিলন। এদের মধ্যে ফারদিন ও সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানা গেছে।

বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণায় ছিল। লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠে যায়নি। এর আগেও লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যা-ই ঘটুক সবাই আমাদের শিক্ষার্থী, প্রশাসন ও খেলা পরিচালনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ফাইনাল খেলা দেখতে আমি মাঠে গিয়েছিলাম। আমাদের এক খেলোয়াড়কে স্লেজিং করা হয়, সে হয়তো প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলেছিল। এরপর বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর শুরু করে। আমাদের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে মারামারি বাধে। আমি আটকাতে গেলে একজন আমার চোখে ঘুষি মারে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত বিষয়টির সমাধান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এছাক মিয়াকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

-সাইমুন