হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোকসভা শেষে তাঁর নামে একটি ১২ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল এবং “অমর একুশে” নামে একটি ছাত্র হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ এ আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মরহুমা খুরশীদ জাহান হকের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহরিয়ার আক্তার হক ডন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জীবনীর ওপর একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফারুক হাসান।
এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভিন্ন শাখার পরিচালক, হল সুপারসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
শোকসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি তাঁর শাসনামলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেড়গুণ বৃদ্ধি, নারীশিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ গত বছরের ১৮ নভেম্বর তাঁর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি হাবিপ্রবির বিভিন্ন বিষয় তাঁকে অবহিত করেন এবং তাঁর নামে একটি ছাত্রী হল নামকরণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়াও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর নামে একটি ছাত্রী হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মজুমদার পরিবার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে শাহরিয়ার আক্তার হক ডন বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুরবাসীর একটি স্বপ্ন, আর এই স্বপ্নের সারথি ছিলেন তাঁর খালা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও মা মরহুমা খুরশীদ জাহান হক। তিনি বলেন, তিনি কখনো তাঁর খালাকে রাগ করতে দেখেননি; তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীলা, পরহেজগার ও কোমল হৃদয়ের একজন মহীয়সী নারী। শত বিপদের মধ্যেও তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ এ দেশের কল্যাণে তাঁর স্বামী ও সন্তানকে দিয়ে তাঁকে বারবার পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন। তৎকালীন সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে তাঁরা যথাযথভাবে শোক পালন করতে পারেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শোকসভা আয়োজনের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান এবং দিনাজপুরের উন্নয়নে তাঁর মা ও খালার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
-সাইমুন










