শরীরে চিনি বা গ্লুকোজের ঘাটতি হলে মানুষ সাধারণত দুর্বলতা, মাথাঘোরা, ঘাম, হাত কাঁপা বা হঠাৎ ক্লান্তি অনুভব করে। এই অবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে রক্তে চিনি স্বাভাবিক করতে ফল একটি সহজ ও নিরাপদ উপায় হতে পারে। কারণ ফলের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং একই সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও দেয়।
কলা এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর একটি ফল। কলায় গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ—এই তিন ধরনের প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই চিনি কমে গেলে কলা খেলে দ্রুত এনার্জি পাওয়া যায়। খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের পর দুর্বল লাগলে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এই কারণেই।
খেজুর আরেকটি শক্তিশালী ফল, যা রক্তে চিনি দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে। অল্প পরিমাণ খেজুরেই প্রচুর প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। হঠাৎ দুর্বল লাগা বা মাথা ঝিমুনি এলে ১–২টি খেজুর অনেক সময়ই স্বস্তি দেয়। তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আম আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয় একটি ফল এবং এতে প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টত্ব বেশি। আম খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে এবং চিনি ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে আম পরিমিত খাওয়াই ভালো।
আঙুরে সরাসরি গ্লুকোজ থাকে, যা খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। তাই চিনি কমে গেলে আঙুর বা আঙুরের রস তাৎক্ষণিক শক্তি দিতে পারে। অনেক সময় অসুস্থ বা খুব দুর্বল রোগীদের আঙুরের রস দেওয়া হয় দ্রুত এনার্জির জন্য।
আপেল একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না, বরং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যারা বারবার দুর্বল হয়ে পড়েন বা দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য আপেল ভালো একটি ফল। পাকা পেঁপে, নাশপাতি ও কমলালেবুও চিনি ঘাটতি পূরণে সহায়ক। এগুলো শরীরে হালকা মিষ্টত্ব এনে দেয় এবং সঙ্গে হজমেও সাহায্য করে।
তবে মনে রাখতে হবে, যদি ঘন ঘন চিনি কমে যাওয়ার সমস্যা হয়, তাহলে সেটা শুধু খাবারের কারণে নাও হতে পারে। ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণেও এমন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু ফল খেয়েই সমস্যার সমাধান হবে না।
-বিথী রানী মণ্ডল










