আজ বাপ্পা মজুমদারের জন্মদিন

বাপ্পা মজুমদারের জন্মদিন আজ। মঞ্চের আলো, দর্শকের ভালোবাসা আর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের পেছনে লুকিয়ে আছে তার জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প। তার জন্ম এক সংগীতনিবেদিত পরিবারে। বাবা পণ্ডিত বারীণ মজুমদার ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতসাধক। বাড়িতে সারাক্ষণ চলত রেওয়াজ-কখনো বাবার, কখনো শিষ্যদের। ছোটবেলা থেকেই সংগীত যেন তার চারপাশের স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল। এই আবহেই বড় হয়েছেন বাপ্পা।

তবে শৈশবটা সবসময় মসৃণ ছিল না। একসময় পরিবারকে হঠাৎ করেই মিউজিক কলেজের বাসস্থান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাসায় ফেরার পর গ্রেপ্তার হন পণ্ডিত বারীণ মজুমদার। অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি।

এই কঠিন সময়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বাপ্পার মা ইলা মজুমদার। চাকরি নিয়ে সন্তানদের মানুষ করার লড়াইয়ে নামেন তিনি। বাপ্পা পরবর্তীতে বারবার বলেছেন, তাদের পরিবার টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের। তার ভাষায়, ইলা মজুমদার শুধু মা নন, এক অসাধারণ শক্তির প্রতীক।

সংগ্রামের মধ্যেও সংগীতচর্চা থেমে থাকেনি। বাবার সাধনা, মায়ের ত্যাগ আর সাংস্কৃতিক পরিবেশ- সব মিলিয়ে বাপ্পার শিল্পীসত্তার ভিত তৈরি হয় সেখান থেকেই। পরবর্তীতে ব্যান্ডসংগীত, একক গান, সুর ও সংগীত পরিচালনায় নিজস্ব ধারা তৈরি করেন তিনি। পণ্ডিত বারীণ মজুমদার ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ২০০২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন-যা এই সংগীত পরিবারটির অবদানের স্বীকৃতি।

আজ জন্মদিনে বাপ্পা মজুমদার শুধু জনপ্রিয় শিল্পী নন, বরং সংগ্রাম পেরিয়ে উঠে আসা এক অনুপ্রেরণার নাম। তার জীবন দেখায়-দুঃসময় যত কঠিনই হোক, সাধনা আর ভালোবাসা থাকলে সুরই হতে পারে টিকে থাকার শক্তি।

মাহমুদ সালেহীন খান