সিআরএফ জরিপ: ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী, প্রধান ইস্যু সুশাসন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার সরাসরি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী। তবে ভোটারদের বড় একটি অংশ এখন ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’ ও ‘সুশাসন’কে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে দেখছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস: এ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে উন্মুখ থাকলেও ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে: ৩২.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেবেন, ৩৩.২ শতাংশ ভোটার দল এবং প্রার্থী—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেবেন।

জরিপে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য এসেছে তরুণ ও নতুন ভোটারদের নিয়ে। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের ৩৭.৪ শতাংশের পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে বিএনপি (২৭ শতাংশ) এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এনসিপি (১৭ শতাংশ)।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মেরুকরণেও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এর আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে এবং ২৯ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।

জরিপ অনুযায়ী, ভোটাররা এখন অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাদের কাছে নির্বাচনের প্রধান ইস্যুগুলো হলো: ১. দুর্নীতি: ৬৭.৩ শতাংশ। ২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: ৬৩ শতাংশ। ৩. উন্নয়ন: ৫৫.৪ শতাংশ। ৪. নিরাপত্তা: ৫১ শতাংশ। বিপরীতে, ধর্মীয় বিষয়টিকে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু মনে করছেন মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।

ভোটাররা ভোটদান নিয়ে আগ্রহ দেখালেও কেন্দ্রে জালিয়াতি, ব্যালট দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে জামায়াতের ৭১ শতাংশ এবং বিএনপির ৪৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন যে, নির্বাচনের দিন ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি পক্ষপাতের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ।

সিআরএফ জানিয়েছে, দেশের মানুষের পালস বা রাজনৈতিক মনোভাব বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই দেশব্যাপী জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।

লামিয়া আক্তার