মাইকেল জ্যাকসন—এই একটি নামই বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে এক বিশাল অধ্যায়। তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই, আর সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সামনে এল তার বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর ট্রেলার। ট্রেলারটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ভার্চুয়াল জগতে রীতিমতো তুফান বয়ে যাচ্ছে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে কেন এত উন্মাদনা।
গত রাতে মুক্তি পাওয়া ট্রেলারটি দর্শকদের এক নস্টালজিক সফরে নিয়ে গেছে। ট্রেলারটির শুরুটা বেশ আবেগঘন। একটি অনুপ্রেরণামূলক কন্ঠস্বর যেন পুরো সিনেমার সুর বেঁধে দেয়—“তুমি আত্মবিশ্বাসী, তুমি শক্তিশালী, তুমি সুন্দর, তুমি সর্বকালের সেরা।” এরপরই দ্রুতলয়ে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। মঞ্চের আলো, হাজার হাজার দর্শকের চিৎকার, আর সেই চিরচেনা জাদুকরী নাচ—সব মিলিয়ে ট্রেলারটি ভক্তদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বড় পর্দায় এক রাজকীয় অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র। মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার নিজের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। ট্রেলার প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জাফরকে নিয়ে। তার শারীরিক গঠন, কথা বলার ভঙ্গি এবং মঞ্চে নাচের সাবলীলতা দেখে খোদ মাইকেল-ভক্তরাই চমকে গেছেন। অনেকের মতে, জাফরকে দেখে মনে হচ্ছে যেন তরুণ মাইকেল জ্যাকসনই পর্দায় ফিরে এসেছেন। পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে মাইকেলের ম্যানারিজমগুলো জাফর যেভাবে ধারণ করেছেন, তা অন্য কোনো অভিনেতার পক্ষে সম্ভব হতো কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে।
পরিচালক অ্যান্টনি ফুকোয়া অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই সিনেমার কাস্টিং সাজিয়েছেন। মাইকেলের জীবনের সাফল্যের পেছনে এবং ব্যক্তিগত টানাপোড়েনে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।
জো জ্যাকসন (বাবা)-কোলম্যান ডমিংগো
ক্যাথরিন জ্যাকসন (মা)-নিয়া লং
লাটোয়া জ্যাকসন (বোন)-জেসিকা সুলা
মোটাউন রেকর্ডস প্রতিষ্ঠাতা-বেরি গর্ডি
সিনেমাটিতে মাইকেলের জীবনের পুরো সময়রেখা তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের শুরুটা হবে ‘জ্যাকসন ফাইভ‘ ব্যান্ডের সেই ছোট্ট মাইকেলকে দিয়ে, যার অসাধারণ কন্ঠ পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। সেখান থেকে কীভাবে একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ বর্ণবৈষম্য ও নানা বাধা পেরিয়ে বিশ্বসংগীতের একক অধিপতি হয়ে উঠলেন, সেই কঠিন যাত্রাই হবে এই সিনেমার মূল উপজীব্য।
নির্মাতাদের মতে, এটি কেবল মঞ্চের আলোকচ্ছটা দেখানোর সিনেমা নয়। মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবনের সৃজনশীল উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পারফেকশনিস্ট হওয়ার জন্য তার নিজের ওপর চালানো কঠোর পরিশ্রম এবং তার একাকীত্ব সবই সুনিপুণভাবে উঠে আসবে।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবন মানেই যেমন আকাশচুম্বী সাফল্য, তেমনি জীবনের শেষভাগে ছিল নানা বিতর্ক। বিশেষ করে শিশু নিগ্রহের অভিযোগ এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক নেতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই বায়োপিক কি সেই অন্ধকার দিকগুলো এড়িয়ে যাবে?
ট্রেলারে মূলত তার মহিমা এবং সংগীত জীবনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে তার কিছু অপ্রকাশিত অডিও রেকর্ডিং নিয়ে নতুন তথ্যচিত্রের খবর আসায় ভক্ত ও সমালোচকদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিচালক অ্যান্থনি ফুকোয়া কি মাইকেলের জীবনের ‘সব’ দিক তুলে ধরবেন, নাকি এটি কেবল একটি ট্রিবিউট ফিল্ম হয়ে থাকবে—তা দেখার জন্য সিনেমাটি মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’। ট্রেলারের প্রভাব দেখে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি বছরের অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টার হতে যাচ্ছে। ভক্তদের জন্য এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং তাদের প্রিয় তারকার প্রতি এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি।
-বিথী রানী মণ্ডল










