আমি নিজের স্বাধীনতা ভালোবাসি-ঊষসী চক্রবর্তী

জন্মদিন মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর প্রিয়জনদের সঙ্গে বিশেষ সময়—এমনটাই বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। বয়স বাড়া নিয়ে তার বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা নেই, বরং তিনি মনে করেন সময় যত এগোয়, জীবন ততই নতুন রঙে ভরে ওঠে। ১৭ ফেব্রুয়ারি নিজের জন্মদিনকে ঘিরে এবারও উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী। কাছের মানুষদের নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনেই দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এসব কথাই তিনি জানালেন এর অনলাইন সংস্করণে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।

ঊষসীর কাছে জন্মদিন কেবল বয়সের সংখ্যা বাড়ার দিন নয়, বরং নিজেকে নতুন করে উপভোগ করার একটি উপলক্ষ। তাই প্রতি বছরই এই দিনটিকে ঘিরে থাকে বিশেষ পরিকল্পনা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, হাসি-আড্ডায় ভরিয়ে তুলতে চান নিজের জন্মদিন। ঘরের মধ্যেই ছোট পরিসরে হলেও উষ্ণ পরিবেশে উদ্যাপন করতে চান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি কি এখনও একা? নাকি জীবনে এসেছে বিশেষ কেউ এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা লাজুক হাসিতে ঊষসী বলেন, বন্ধুত্ব তো হয়ই, তবে সেই সম্পর্ক কোন দিকে যাবে তা এখনই বলা যায় না। সম্পর্ক নিয়ে তিনি এখন আর তাড়াহুড়ো করতে চান না। নিজের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পরিসরকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই নিজেকে ‘কমিটমেন্ট ফোবিক’ বলেই স্বীকার করেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছরের একটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে এখন নিজের মতো করে জীবনকে উপভোগ করতে চান এই অভিনেত্রী।

ঊষসীর মতে, একা থাকার মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের আনন্দ ও স্বাধীনতা। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া, নিজের পছন্দের মতো জীবনযাপন করা—এসবই তাকে সুখী করে। তাই আপাতত কোনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে জড়ানোর ইচ্ছা নেই তার। তিনি মনে করেন, কমিটমেন্টে গেলে জীবনের অনেক মজাই হারিয়ে যায়। বরং এই সময়টুকু তিনি নিজের জন্য রাখতে চান, নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে চান।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজেকেও দিয়েছেন ছোট্ট কিছু উপহার। নতুন কিছু পোশাক কিনেছেন, আর ভাবছেন একটি ট্যাবলেট কম্পিউটার কেনার কথাও। নিজের এই ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারাটাকেই তিনি জীবনের বড় আনন্দ বলে মনে করেন।

তবে এই আনন্দঘন দিনেও আবেগঘন স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জন্মদিন এলেই বাবাকে খুব মনে পড়ে ঊষসীর। পাশাপাশি ছোটবেলার এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গেও এখন আর যোগাযোগ নেই—তাই তাকেও মনে পড়ে এই বিশেষ দিনে। এই স্মৃতিগুলো তার মনে এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে—আনন্দের সঙ্গে খানিকটা বিষণ্ণতাও থাকে।

সব মিলিয়ে, নিজের জন্মদিনকে ঘিরে দারুণ ইতিবাচক মনোভাবই প্রকাশ করেছেন ঊষসী চক্রবর্তী। তিনি বয়সকে নয়, জীবনকে উপভোগ করতে চান—আর সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন নিজের মতো করে।

-বিথী রানী মণ্ডল