সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠীর পরিবারের সঙ্গে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে উল্টো গ্রেপ্তার হয়েছেন, রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম নিহত হন। অন্যান্য যাত্রীদের আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনতার মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে বেলপুকুর থানা, পবা হাইওয়ে থানা ও পুঠিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা পৌঁছায়।
থানার সীমানাজনিত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ফলে স্থানীয় জনতার ক্ষোভ তীব্র হয় এবং বাসচালককে আটকের দাবি ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তারা দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন গতিকে দায়ী করে।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরো জানান, দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আনুমানিক ৩০-৪০ মিনিট পর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বডি ব্যাগে সহপাঠীর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা তীব্র মানসিক চাপ ও আবেগে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বাসচালক আটক না হওয়া, থানা নিয়ে সীমানাজনিত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ও সহপাঠীদের মধ্যে ব্যাপক জনরোষের ফলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা ওই সময় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত রাখা এবং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেন।
রাত ৯ টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ সময় স্থানীয় কুচক্রীমহল সেনাবাহিনী, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এমনকি রাস্তায় পড়ে থাকা লাশের ওপরও ইট-পাটকেল পড়তে থাকে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহপাঠীর লাশ সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অ্যাম্বুল্যান্সে লাশটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। তবে গত ২৬ জানুয়ারি বেলপুকুর থানায় নিহত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্তর পক্ষে ছাত্র-শিক্ষকসহ পরিবারের সদস্যরা মামলা রুজু করতে গেলে থানার সামনে থেকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকে সর্বোচ্চ সমর্থন করে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, ঘটনার বাস্তবতা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নমনীয় এবং সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে ন্যায় ও যুক্তিসংগত সমাধান সম্ভব। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখে, প্রত্যাশা করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে।
মোঃ গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী/










