রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুদফায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মিয়ানমারে সৃষ্ট এই ভূকম্পনের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.৯ ও ৫.২। একই দিনে ভোরে সাতক্ষীরায় আরও একটি মৃদু ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক দিনে তিনবার ভূ-কম্পনের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে প্রথমবার ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। এর মাত্র ১৭ মিনিট পর অর্থাৎ রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ৫.২ মাত্রার দ্বিতীয় দফার কম্পন অনুভূত হয়। দুটিরই উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষেরা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্যের বরাতে জানান, প্রথম ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। এটি ২০২৪ সালে সংঘটিত ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের একই সক্রিয় ফল্টে (ফাটল) উৎপন্ন হয়েছে। এই ফল্টটি অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার আফটারশকের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
রাতের জোড়া ভূ-কম্পনের আগে মঙ্গলবার ভোরেও একবার কেঁপে উঠেছিল দেশ। ভোররাতে ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকা। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এটি ২২.৮৪ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে সংঘটিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক দিনে তিনবার কম্পন এবং সক্রিয় ফল্টে শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়াটি বড় কোনো ঝুঁকির সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে আফটারশকের আশঙ্কায় ভবনগুলোতে বসবাসরতদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










