বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। যার নাম সারাবিশ্ব ব্যাপী পরিচিত। যার পাদদেশে শায়িত আছেন উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত কামেল হযরত শাহ সুলতান। তার পবিত্র ভূমিতে এখন মাদক কারবারীদের দৌরাত্ম্য চরমে। হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা, নারী টাকায় কি মিলছে না এখানে? প্রয়োজন শুধু টাকার।
মহাস্থানে মাদক সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার কারন হিসেবে প্রশাসনের উদাসীনতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সীমিত তৎপরতার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠছে। ফলে পুরো এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী।
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়েছে। এখনও তারা শতভাগ সক্রিয় হতে না পারায় মাদক সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় শক্তিশালী হয়ে উঠেছে— এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। মহাস্থান এলাকায় পুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান না থাকায় দিনদিন মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মহাস্থান দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মোন্নাপাড়া, প্রতাববাজু, বিলপাড়া, মহাস্থান ফুটওভার ব্রিজের আশেপাশে, বোরহান গেট, বানারশি, ছাড়াও মহাস্থান শালবাগান ও পাথরপাড়ার পাশে গড়ে ওঠা নতুন পাড়াতে প্রতিদিন প্রকাশ্যে কেজি কেজি গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা সেবন ও বিক্রি এবং দেহ ব্যবসার মত জঘন্য কার্যক্রম চলছে। এসব এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অত্যাধিক সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “মাদকচক্র যেকোন মুহূর্তে ধরতে সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে কিন্তু প্রশাসন নিরব কেন আমরা বুঝি না। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই আমাদের ছেলে মেয়ে ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব না।”
উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রবেশদ্বার ও জনপদ বগুড়া তথা মহাস্থান। প্রতিদিন এখানে বৈরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা লেগেই থাকে। মাদকসেবীরা মহাস্থানগড়ের শালবাগানের পশ্চিমপাশে জঙ্গলে মাদক সেবনের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। যেখানে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে নেশা করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা আরও জানান, “প্রশাসনের কিছু অসৎ লোকের যোগসাজশে এসব মাদক ব্যবসা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেকারনে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন মরণনেশা এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে।”
প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, “বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে এই মাদকচক্র দমন করা কঠিন। তাই যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ছাড়া এ সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।”
অভিভাবকসহ সচেতন মহল দ্রুত সময়ের মধ্যে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হযরত শাহ সুলতান এর মাজারের পবিত্রতা রক্ষার্থে প্রতিটি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবিষয়ে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “দ্রুত সময়ে মহাস্থান এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। শিবগঞ্জ মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নেই।”
-গোলাম রব্বানী শিপন
মহাস্থান, বগুড়া










