৮ বছরের পুরোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিচ্ছে পাকিস্তান?

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় আইসিসি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেটভক্তদের বড় ভরসা। কিন্তু আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্তে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে।

পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তই এর পেছনে বড় কারণ। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। এর প্রতিবাদে আগেই অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিতও দিয়েছিল তারা।

এর পাশাপাশি সামনে এসেছে আরও পুরোনো একটি বিষয়। পিসিবির এক সূত্র ডনকে জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসির ডিসপিউট রিসলিউশন কমিটিতে করা অভিযোগের অভিজ্ঞতাই বর্তমান অবস্থানের ভিত্তি। বিষয়টির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালে পিসিবি এবং বিসিসিআইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা চুক্তি থেকে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত পাকিস্তানের ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা ছিল। বিনিময়ে পিসিবি আইসিসির বিগ থ্রি রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলে সমর্থন দেয়।

২০১৮ সালে পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে না যাওয়ায় বিসিসিআইয়ের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে পিসিবি। তখন বিসিসিআই যুক্তি দেয় এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত। আইসিসির ডিআরসি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সেই দাবি খারিজ করে দেয়। এবার সেই সিদ্ধান্তকেই সামনে রেখে একই যুক্তিতে শাস্তি এড়াতে চাইছে পিসিবি।

ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্তও এসেছে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে। সেই কারণে সরকারি নির্দেশনার অজুহাত দেখিয়ে আইসিসির কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে প্রস্তুত তারা। একই কারণে আগে ভারত ছাড় পেলে এবার পাকিস্তানের শাস্তি কেন হবে সেই প্রশ্ন তুলতে পারে পিসিবির কর্মকর্তারা। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার পথও খোলা রাখছেন মহসিন নাকভিদ।

-সাইমুন