চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউশন এই অভিযোগ জমা দেয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগে মোট ২৩ জনকে হত্যার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে উস্কানি ও নির্দেশ প্রদানের দায়ে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম উভয়ই বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আজই ট্রাইব্যুনালে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জুলাই-আগস্টের এই ট্র্যাজেডিতে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলকে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বিগত সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পদে ছিলেন, তাদের এই বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মনে কিছুটা স্বস্তি জোগাচ্ছে। প্রসিকিউশনের মতে, ২৩ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই অপরাধের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই মামলার মূল লক্ষ্য। এই বিচারের মাধ্যমে কেবল অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে না, বরং ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড রোধে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশে’ ইনসাফ কায়েমের এই লড়াইয়ে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
–লামিয়া আক্তার










