“জীবন যাবে কিন্তু আমরা জায়গা ছাড়তে রাজি নই”

বগুড়ার শিবগঞ্জে হরিজন সম্প্রদায় (সুইপার) এদের বিবাদমান জায়গা নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ করে দখলের চেষ্টাকালে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি। একপর্যায়ে ৭ দিনের সময় চেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দর সংলগ্ন হরিজন জনগোষ্ঠীর (সুইপার) কর্তৃকারক রামজতন বাঁশফোর, শ্রী লঙ্কেশ্বর বাঁশফোর ও শ্রী নন্দন বাঁশফোর, গত ইং ১৯/০৯/১৯৭৭ইং সালে বাদী হারুন অর রশিদের পিতা আব্দুল মন্ডলের কাছ থেকে ১২ শতক বিবাদমান সম্পত্তি একটি আপোষনামা মূলে তপশীল বর্ণিত সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। এমতাবস্থায় বাদী মৃত্যুবরণ করিলে বর্তমানে বাদীর অন্যান্য শরিরেরা সেখানে দখল করতে তৎপরতা চালায়। এরপর বাদীগণ জেলা বগুড়া আদমদিঘী থানা সিভিল জজ আদালতে মোকদ্দমা করেন।

সেই মোকদ্দমা রায়ে বাদী পক্ষ একটি দরখাস্ত দাখিল করে গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ও ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাদী পক্ষের দাখিলী দুটি দরখাস্ত শুনানীর জন্য অদ্য অত্র মোকদ্দমার নথি মাননীয় আদালতে উপস্থাপন করার প্রার্থনা করেন। নথি দরখাস্ত শুনানীর জন্য পেশ করা হয়। শুনানী উপস্থাপনের প্রার্থনা মঞ্জু করে উক্ত বিবাদমান সম্পত্তি ২৪/১১/২০২৫ ইং তারিখে দখল দিতে আদালত থেকে শিবগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান কে নির্দেশ দেওয়া হয়৷

ইউএনও বিষয়টি নিয়ে অপারগত প্রকাশ করলে এর পরিবর্তে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে নালিশী তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে ডিক্রিদারের দখল কার্য- সম্পন্ন করার নিমিত্তে নাজির ও ২৭জন পুলিশ ফোর্স নিয়োগের প্রার্থনা মঞ্জুর করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ০১ পুরুষ এস আই, ০১ পুরুষ এ.এস.আই, ১৭ জন পুরুষ কনষ্টেবল, ০৮ জন নারী কনস্টেবলের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশ ফোর্সের মাধ্যমে উচ্ছেদ পূর্বক নালিশী সম্পত্তির দখল এ্যাডভোকেট কমিশনার মোঃ আব্দুল লতিফ এর সহায়তায় ও নাজির জেলা জজ আদালত, বগুড়ার মাধ্যমে আগামী ইং ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিক্রিদারকে দখল বুঝে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দখলী প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য বলা হয়।

এরপর সকাল ১১টায় আদালতের নির্দেশে মোকামতলা সুইপার কলোনী দখলমুক্ত করতে এ্যাডভোকেট কমিশনার মোঃ আব্দুল লতিফ এর সহায়তায় ও জেলা জজ আদালতের নাজির উপস্থিত হোন। তারা এস্কেভেটর (ভেকু) নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সেখানে বাদী এবং বিবাদী হরিজন জনগোষ্ঠীর সাথে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা তাদের দেড়’শ বছরের ভিটামাটি ও ঘর-বাড়ি রক্ষার্থে পরিবার পরিজনদের নিয়ে মোকামতলা-সোনাতলা আঞ্চলিক রোড অবরোধ করেন।

এবিষয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের প্রধান শ্রী চুনি লাল বাঁশফোর বলেন, আমরা দেড়’শ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। আগে যখন এই জমি গুলো নেওয়া হয় তখন তো আমাদের নামে দলিল হতো না। তারপরও সেই সময়ের জমি বিনিময়ের কাগজপত্র আছে।

আজ যে আদালতের রায়ে ডিক্রী আনা হয়েছে এটি একতরফা রায়। আমরা যদি আগে জানতাম তাহলে মামলার সাথে মোকাবেলা করতাম। আমরা উক্ত মামলা পরিচালনা করিবার কোন সুযোগ পাই নাই বা অত্র মোকদ্দমার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। অত্র মোকদ্দমা বাদী মিথ্যা, অন্যায়ভাবে তথ্য গোপন রাখিয়া আদালত হইতে রায় ডিক্রি হাসিল করেছে।। আমরা এই অন্যায় মানি না।

এবিষয়ে শ্রীমতি পারুল রানী বাঁশফোর বলেন, “জীবন যাবে কিন্তু আমরা জায়গা ছাড়তে রাজি নই”। ২’শ বছর ধরে আমরা এই জায়গায় বসবাস করছি। একমাত্র আমাদের মৃত্যুই পারে এই জায়গা বেদখল করতে। একই ভাবে বক্তব্য রাখেন, মিলন বাঁশফোর। তিনি বলেন, আমাদের ৪ পুরুষ কেটে গেছে এই জায়গায়। আজ হঠাৎ করে আমাদের বাড়ীঘর ভেঙে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। পরে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, শিবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুস শুকুর আলী। পরে উভয় পক্ষ বসে ৭ দিনের সময় চেয়ে মীমাংসার দাবী জানালে আদালতের নাজির বিষয় আমলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

-গোলাম রব্বানী শিপন

মহাস্থানগড়, বগুড়া