২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে এবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হারুনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা এই চার্জশিটে হারুন অর রশীদ ছাড়াও পুলিশের সাবেক কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া এবং সিটিটিসি ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। প্রসিকিউশন জানায়, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আজ এটি ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত এই অভিযোগের ওপর শুনানির পর পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিন ধার্য করবেন।
২০১৬ সালের সেই কথিত অভিযানে নিহত সাতজনের মধ্যে একজন ছিলেন ইবরাহীম, যিনি যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় অধ্যায়নরত ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন যে, তার ছেলেকে গুম করার পর পরিকল্পিতভাবে এই সাজানো নাটকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তার এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত।
এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। প্রসিকিউশনের মতে, তথাকথিত ‘জঙ্গি দমনের’ নামে সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই মামলার মাধ্যমে সেই অবিচারের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া, এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে প্রশস্ত করবে। বিশেষ করে ইবরাহীমের মতো ছাত্রদের গুম ও হত্যার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার মাধ্যমে বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে এই আস্থা ফিরে আসবে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন লঙ্ঘন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
–লামিয়া আক্তার










