বগুড়া-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হলে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠে জামায়াত ও বিএনপি। উভয় দলই প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালালেও একে অপরকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ সংসদীয় আসনের রায়নগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী শাখার উদ্যোগে মহাস্থানে একটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ রায়নগর ইউনিয়ন শাখার আমির আলহাজ্ব মাওলানা এ.বি.এম. ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে মহাস্থান হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) ফাযিল মাদ্রাসা মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। তিনি বলেন, “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা যুগে যুগে জুলুম করেছে, জনগণ কখনো তাদের আপন করেনি।” তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নতুন আশার স্বপ্ন দেখেছিল। অনেকে একে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও নির্যাতনের চিত্র খুব একটা বদলায়নি—শুধু হাত বদল হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এতদিন ওদের সঙ্গে ছিলাম, তখন আমরা ছিলাম আলেম। কিন্তু সত্য কথা বলায় এখন তাদের চোখে আমরা রাজাকার হয়ে গেছি।” তিনি আরও জানান, বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কোনো হুমকি বা ভয়ভীতি দাঁড়ি পাল্লার বিজয় ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যারা ভয় দেখায়, চাঁদাবাজি করে ও দলীয় স্বার্থে নির্যাতন চালায়, তাদের হাত থেকেই লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। তিনি ৫৪ বছরের ব্যর্থ শাসকদের লাল কার্ড দেখানোর ঘোষণা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ শাকিল উদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানি শাসন, সামরিক শাসন ও স্বাধীন বাংলাদেশের একাধিক সরকারই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের কল্যাণ ক্ষমতার লোভে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এলেও শাসকগোষ্ঠী শোষণ ছাড়া তেমন কিছু দিতে পারেনি।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ভয়ভীতি দেখাতে পারে, কালো টাকা ছড়াতে পারে, কিন্তু জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। ঘরে ঘরে সত্য পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো হামলা বা উসকানি নয়—জনগণের বিবেকই হবে প্রধান শক্তি। গণতান্ত্রিক ও ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ইসলামী চেতনা, জুলাই চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন এমপি প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল বাছেত, শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আছার উদ্দিনসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান বগুড়া/