টিকিটহীন যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ট্রেন ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের তিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের সই করা এক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিবার(১ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস’ (৭০৪) ট্রেনের একটি কোচে দায়িত্বরত ছিলেন স্টুয়ার্ড মো. আরিফ, স্টুয়ার্ড ম্যানেজার মো. জুয়েল রানা এবং কন্ডাক্টর গার্ড মো. মোস্তাফিজুর রহমান লিমন। অভিযোগ ওঠে, তারা টাকার বিনিময়ে বেশ কিছু যাত্রীকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওই তিন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩১ জানুয়ারি বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি অধিকতর তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গত শনিবার রেলে নিরাপত্তা জোড়দারের নির্দেশ দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে রেলের যাত্রী সাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কোনো ধরনের নাশকতা, কিংবা রেল যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেল স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে কল করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে জানানো হয়।