তফসিল অনুযায়ী উৎসবমুখর পরিবেশে দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট) আসনের প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এই আসনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে একটি জমজমাট লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শেষ দিন পর্যন্ত মোট ৮ প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়ন দাখিল করে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটজন প্রার্থী অনলাইনে ও সশরীরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
হেভিওয়েট ও নতুন মুখের লড়াই এবারের নির্বাচনে বড় দলগুলোর পাশাপাশি নতুন ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বিএনপি থেকে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির এ্যাডভোকেট মো. রেজাউল হক এবং এবি পার্টির তরুণ নেতা ব্যারিস্টার সানি মো. আব্দুল হক আধুনিক ও স্মার্ট নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এছাড়া বাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি লড়াইকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
ভোটারদের প্রত্যাশা ও বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনী এলাকার বিরামপুর বাজার, নবাবগঞ্জ সদর, রাণীগন্জ বাজার ও হিলি সীমান্তের চায়ের দোকানগুলোতে এখন আলোচনার মূল বিষয় নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এলাকার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবেন এমন কাউকেই নির্বাচিত করতে চান।
স্থানীয় একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে। প্রার্থী কে বড় বা ছোট তা বিষয় নয়, আমরা চাই যিনি আমাদের সুখে-দুখে পাশে থাকবেন এবং এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দিনাজপুর-৬ আসনে বরাবরই ভোটের লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। চার উপজেলার ভৌগোলিক গুরুত্ব ও বৈচিত্র্যপূর্ণ জনবসতির কারণে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি— উভয়ই জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় যারা থাকছেন:
বিএনপি: আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন,জামায়াতে ইসলামী: মো. আনোয়ারুল ইসলাম জাতীয় পার্টি: এ্যাডভোকেট মো. রেজাউল হক।