ফেব্রুয়ারির আকাশে মহাজাগতিক বিস্ময়

ফেব্রুয়ারি মাসে আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একের পর এক রোমাঞ্চকর মহাজাগতিক ঘটনা। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের দিকে মানুষের যাত্রার প্রস্তুতি, শীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রমণ্ডল ওরিয়নের আধিপত্য এবং একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে দৃশ্যমান হতে চলেছে একাধিক গ্রহ।

নাসার আর্টেমিস–২ (Artemis II) মিশনের প্রথম উৎক্ষেপণ সুযোগ খুলছে এই ফেব্রুয়ারিতেই। এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবে। আর্টেমিস–২ সফল হলে ভবিষ্যতের আর্টেমিস–৩ মিশনের পথ প্রশস্ত হবে, যার মাধ্যমে আবার মানুষ চাঁদের বুকে পা রাখবে।

নাসা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির রাতের আকাশে উজ্জ্বল চাঁদের দিকে তাকালে কল্পনায় ভেসে উঠতে পারে হয়তো কেউ সেখান থেকে পৃথিবীর দিকেই তাকিয়ে আছে। এদিকে শীতের আকাশে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নক্ষত্রমণ্ডল ওরিয়ন দ্য হান্টার ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর দক্ষিণ আকাশে চোখ রাখলেই দেখা মিলবে ওরিয়নের তিনটি সারিবদ্ধ তারার বেল্ট। বেল্টের ওপরে রয়েছে উজ্জ্বল লালচে তারকা বেটেলজিউস, আর নিচে নীলাভ উজ্জ্বল রাইজেল। ওরিয়নের তলোয়ার অংশে দেখা যায় ধোঁয়াটে ওরিয়ন নেবুলা, যা মহাকাশপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

এছাড়া ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে ঘটতে যাচ্ছে এক বিরল গ্রহের শোভাযাত্রা (Planetary Parade)। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে শুক্র ও বুধ কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। একই সময়ে শনি ধীরে ধীরে দিগন্তের দিকে নামতে থাকবে। আকাশের অনেক ওপরে উজ্জ্বলভাবে অবস্থান করবে বৃহস্পতি। পাশাপাশি দক্ষিণ আকাশে ইউরেনাস এবং শনির কাছাকাছি নেপচুনও থাকবে, যদিও এই দুটি গ্রহ দেখতে দূরবিন বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসের শেষ দিকে গ্রহগুলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে এক সারিতে দেখা যাবে। এদিকে ফেব্রুয়ারির চাঁদের অবস্থানও নজর কাড়ছে।

  • ১ ফেব্রুয়ারি: পূর্ণিমা (স্নো মুন)
  • ৯ ফেব্রুয়ারি: তৃতীয় চতুর্থাংশ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি: অমাবস্যা (এদিন একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণও ঘটবে)
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি: প্রথম চতুর্থাংশ

নাসা জানিয়েছে, সৌরজগত ও মহাবিশ্ব অনুসন্ধানে তাদের সব হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে science.nasa.gov ওয়েবসাইটে। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসটি হতে যাচ্ছে আকাশ দেখার জন্য এক অসাধারণ সময়। পরিষ্কার আকাশ পেলে বাইরে বেরিয়ে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা কতগুলো গ্রহ একসঙ্গে চোখে পড়ে, তা গুনে দেখার জন্য।

সূত্র: নাসা

সাবরিনা রিমি/