মার্কিন বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি হুমকির মুখে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইটড্যান্সে জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও তৈরির সরঞ্জাম সিড্যান্স ২.০–এ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে উন্মুক্ত হওয়া সিড্যান্স ২.০ দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিটকে নিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মডেলটির তুলনা করা হচ্ছে চীনের আরেক আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক–এর প্রযুক্তির সঙ্গে। ব্যবহারকারীরা অল্প কিছু নির্দেশনা লিখেই চলচ্চিত্রধর্মী কাহিনিনির্ভর ভিডিও তৈরি করতে পারছেন বলে এটি প্রশংসা পাচ্ছে।
তবে মার্কিন বিনোদন জায়ান্ট দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি অভিযোগ করেছে, তাদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্রভিত্তিক চরিত্রগুলো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে। ডিজনি একটি কার্যক্রম বন্ধ ও বিরত থাকার আইনি নোটিশ পাঠিয়ে দাবি করেছে, সিড্যান্স ২.০–কে প্রশিক্ষণ দিতে ও পরিচালনায় তাদের স্বত্বাধিকারযুক্ত চরিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্টার ওয়ার্স ও মার্ভেল ধারার চরিত্র যেমন স্পাইডার-ম্যান ও ডার্থ ভেডার ভিডিওতে পুনরুৎপাদন, বিতরণ এবং পরিবর্তিত রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সেগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সম্পদ।
এ ছাড়া মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সও একই ধরনের অভিযোগ তুলে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
জবাবে বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত চরিত্র বা কোনো ব্যক্তির চেহারা ও পরিচিতি ব্যবহার করতে না পারেন। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরেই ডিজনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান OpenAI–এর সঙ্গে একটি লাইসেন্স চুক্তি করে, যাতে স্টার ওয়ার্স, পিক্সার ও মার্ভেল চরিত্রগুলো ‘সোরা’ নামের ভিডিও তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় বৈধভাবে ব্যবহার করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। সিড্যান্স ২.০–কে ঘিরে এই বিরোধ সেই চলমান আইনি ও নৈতিক প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










