ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গফুর ভূঁইয়ার দায়ের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে এই চূড়ান্ত আদেশ দেন।
গফুর ভূঁইয়ার নির্বাচনী যাত্রায় বাধার সূত্রপাত হয় একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকির (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট) অভিযোগের মধ্য দিয়ে। নুরে আলম সিদ্দিকি অভিযোগ করেন, গফুর ভূঁইয়া অন্য দেশের নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন, যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী।
১৮ জানুয়ারি: অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শুনানি শেষে গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
২২ জানুয়ারি: ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। তবে হাইকোর্ট তার আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
১ ফেব্রুয়ারি: সবশেষ আশ্রয়স্থল আপিল বিভাগেও আজ তার আবেদন খারিজ হওয়ায় নির্বাচনী লড়াই থেকে স্থায়ীভাবে ছিটকে পড়লেন তিনি।
আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এই আসনে বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে আজ একই দিন আদালতের অন্য একটি আদেশে এই আসনের অপর বিএনপি নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে গফুর ভূঁইয়া ছিটকে গেলেও মোবাশ্বের আলমের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে টিকে থাকা বিএনপির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
গফুর ভূঁইয়ার নির্বাচনী পথ রুদ্ধ হওয়ায় নাঙ্গলকোট ও লালমাই এলাকার তার অনুসারীদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। অন্যদিকে, আইনি লড়াইয়ে জয়ী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষ থেকে এই রায়কে ‘আইনের শাসন ও স্বচ্ছতার বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










