দেশের বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা থামছেই না। গত কয়েক দিন দফায় দফায় কমার পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আবারও বাড়ল সোনার দাম। ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। ঘোষণার পর থেকেই অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনার যে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে সব ধরনের ক্যারেটের দামেই বড় অংকের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং উৎকৃষ্ট মানের সোনা হিসেবে পরিচিত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়, যা গতকালের তুলনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বেশি। একইভাবে বেড়েছে ২১ ক্যারেট সোনার দামও; এখন থেকে এই মানের প্রতি ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা।
অন্যদিকে, যারা ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে গহনা তৈরি করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। এছাড়া সাধারণ বা সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে; বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এই মানের প্রতি ভরি সোনা এখন ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায় থিতু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই মূল্যের বাইরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করে ক্রেতাকে চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
তবে সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা আগের মতোই ৬ হাজার ৩৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সোনার বাজারে নজিরবিহীন ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় গত বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল সোনার দাম, যার ফলে প্রতি ভরি দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই শুক্রবার থেকে কয়েক দফায় দাম কমতে শুরু করে। তবে মঙ্গলবার সকালে সেই ধারায় ছেদ পড়ল এবং দাম আবারও আড়াই লাখ টাকার ঘর ছাড়িয়ে গেল।










