ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।
শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “ওরা কিছু নিরীহ মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে রাস্তায় নামিয়েছে এবং তাদের উসকে দিয়েছে দেশকে অস্থিতিশীল করতে, মানুষে মানুষে ঘৃণা ও সংঘর্ষ তৈরি করতে।”
ইরানের সরকারি স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্কের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট বলেন, “স্বাভাবিক কোনো বিক্ষোভে মানুষ অস্ত্র তোলে না, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করে না, অ্যাম্বুলেন্স বা বাজারে আগুন দেয় না। আমাদের উচিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বসে তাদের কথা শোনা এবং সমস্যার সমাধান করা। আমরা তাদের কথা শুনতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু সামাজিক বিক্ষোভ ছিল না। বিদেশি শক্তিগুলো আমাদের সমস্যাকে কাজে লাগিয়েছে, সমাজকে উসকে দিয়েছে এবং বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে।”
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের বড় অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সহিংস বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে—যা কয়েক দশ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌবহর মোতায়েন করেছে এবং ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানে আঘাত হানতে তারা “সম্পূর্ণ প্রস্তুত”।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার বিষয় হবে না।
এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ও আরও কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস দমন অভিযানে এসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী বাবাক মরতেজা জানজানির নামও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি ইরানি জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে জড়িত কিছু ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন।
সূত্রঃ আল জাজিরা
বেলাল হোসেন/










