হ্যারি ব্রুকের জাদুর ব্যাটিং

হ্যারি পটারের মতো তিনিও কি জানতে পেরেছেন যে তাঁর মধ্যে জাদুশক্তি আছে? চাইলে নিজের দিনে ব্যাট হাতে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন, ইনসাইড ছক্কা থেকে ব্যাকফুট ছক্কা– চোখের নিমেষে বল উড়িয়ে দিতে জানেন। হয়তো তাই, তিনি হ্যারি ব্রুক।

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক; মঙ্গলবার কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬৬ বলে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলে রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিয়েছেন। রেকর্ড বলছে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে কোনো ইংলিশ ব্যাটারের এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ইতিহাস এটাও বলছে, এই ব্রুকের জাদুর ব্যাটিংয়ে ভর করেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫৭ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছে ইংল্যান্ড। অতীত এটাও সাক্ষী দিচ্ছে যে লঙ্কায় এ পর্যন্ত ওয়ানডেতে ব্রুকের মতো সবচেয়ে বেশি ৯ ছক্কা কেউ হাঁকাতে পারেননি। জে কে রাউলিংয়ের কালজয়ী উপন্যাসের চরিত্র হ্যারি পটারের মতো তিনিও কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককুলামের ‘বাজবল’ স্কুলের অন্যতম এক চরিত্র; যিনি কিনা দিন দিন নিজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন আর এক এক করে ইতিহাস গড়ছেন।

অথচ এই ব্রুককে নিয়ে কয়েক মাস আগেও হতাশ হয়ে পড়েছিল ইংলিশ মিডিয়া। মাঠের বাইরে তাঁর বাধাহীন জীবন নিয়ে ট্যাবলয়েডগুলো শিরোনাম করত। গেল বছরের অক্টোবরের কথা, নিউজিল্যান্ডে খেলতে গিয়ে ওয়েলিংটন শহরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাতে পানশালার বাউন্সারের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। মদ্যপানজনিত বিশৃঙ্খলার কারণে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। গুনতে হয়েছিল ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানাও।

এমনিতে ইংলিশ ক্রিকেটারদের পানীয় প্রীতি নিয়ে বদনাম কম না। এবারে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে যখন একের পর এক টেস্ট হারছিল, তখন তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ তোলে ইংলিশ মিডিয়া। এসব নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার কলম্বোতে সেই পানীয়-কাণ্ডই যেন তুলে আনলেন ব্রুক তাঁর ‘বিয়ার স্ম্যাশ’ উদযাপন দিয়ে। মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন, ইনিংসের শেষ ১০ ওভারেই নিয়েছেন ১০১ রান!

এমন একটা বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর আমেরিকান রেসলার স্টোন কোল্ড স্টিভের মতো দুই হাতে বিয়ার ক্যান নিয়ে তা ভেঙে ফেলার উদযাপন করেন হ্যারি ব্রুক; যা নিয়ে কেউ কেউ মৃদু সমালোচনা করেছেন বটে, তবে ব্রুকের সতীর্থ জো রুট অবশ্য একটা নিছক মজা বলেই মনে করছেন। ‘আসলে ও এমনই। এটা ওর নিজস্ব ধরন। ও হাস্যরসের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছে যে ও দলের সবার সমর্থন চায়। দুর্দান্ত নেতা হয়ে ওঠার জন্য এটাও ওর একটা বৈশিষ্ট্য। চাপের মুখে এবং নিজের ধৈর্য ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে।’

এই ব্রুকের কাছেই ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ব্যর্থ হওয়ার পর নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন রুট। তবে ব্রুককে নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো দ্বিচারিতা নেই; বরং এই ব্রুকের হাত ধরেই যে ইংল্যান্ড সাদা বলে নতুন অধ্যায় শুরু করবে, তা নিয়ে আশাবাদী রুট। এই ব্রুকের জাদুকরি ব্যাটিংই হয়তো এবারের টি২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

-সাইমুন