‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি’

দেশে নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার দাবি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বলছে, তাই নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি।
গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এতে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন এবং দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এসব সমস্যার মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি। এজন্য ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি পরিচালনা করা এবং কাউন্সিলকে আইন ও বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার এনে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা। যানজট কমাতে স্কুল-কলেজের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বাস ক্রয়ে শুল্ক কমানো ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া।
সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি যেমন ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এবং রিয়েল টাইম সেফটি মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ সব ধরনের যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করা।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অসহনীয় যানজট বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। তাই নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আরও বলেছে, থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের জন্য নিরাপদ রোড ডিজাইন, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, সড়ক-রেল-নৌ পরিবহন একত্রিত করে অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন এবং প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
এ ছাড়া সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার জন্য বছরে ৭’শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, সময়োপযোগী নীতিমালা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষ চালক তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ ও তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ট্রমা কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা। থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে এসব যানবাহনের জন্য নিরাপদ সড়ক নকশা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।
এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭’শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা। সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হলেও এর জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যাবশ্যক।
-হাসান