মুছাব্বির হত্যা: পুলিশের হাতে নতুন সিসিটিভি ফুটেজ

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির (৪৪) হত্যার দুই দিনেও জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকান্ডের সাথে কারা জড়িত সে ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যার সাথে জড়িত দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তাদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ । তবে পুলিশ বলছে তাদের হাতে নতুন সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে। যেখানে শুটারদের চেহারা আরও স্পট। যা বিশ্লেষণ করে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। এরই মধ্যে দুই শুটারকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে।
বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীরা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ আবু সুফিয়ান মাসুদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানান, ঘটনার পর ওই দুই ব্যক্তি প্রধান সড়ক পার হয়ে কারওয়ান বাজারে ঢুকে পড়ে। মানুষের ভিড়ে মিশে যায়। তাদের গতিপথ শনাক্ত করতে আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় চার থেকে পাঁচজন। রহস্য উদ্ঘাটনে কিছু বিষয় সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। তবে কারওয়ান বাজারে আধিপত্য ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কিনা সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
ঘটনাস্থলের পাশের আহমেদ ম্যানশনের নিরাপত্তাকর্মী সাকিবুল ইসলাম বলেন, ভবনের সামনের গলিটিতে কয়েকদিন ধরে অন্ধকার অবস্থা। সেখানেই মুসাব্বির ও মাসুদকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই গলি দিয়ে কিছুটা সামনে এগোলে তাঁর মুছাব্বিরের পৈতৃক বাড়ি। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সেই বাড়িতেই থাকতেন। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান। সাকিবুল ইসলাম আরো বলেন, বুধবার রাতে আমি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পরপর তিনটি শব্দ শুনি। এ সময় দেখি দুজন গলির ভেতর থেকে দৌড়ে কারওয়ান বাজারের দিকে পালাচ্ছে। ঘটনাস্থলের পাশের চা দোকানি শাহ আলম বলেন, ঘটনার সময় আমার দোকানে অনেক মানুষ ছিল। শব্দ পাওয়ার পরই বেরিয়ে দেখি মুসাব্বির ও মাসুদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘মুছাব্বির প্রায় সময়ই আমাকে বলত, আমার অনেক শত্রু হয়ে গেছে। আমি বেশিদিন বাঁচব না। যে কোনো সময় আমাকে মেরে ফলবে। অনেক দিক থেকেই শত্রু হয়ে গেছে।’ কী নিয়ে শত্রুতা এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বলেন, ‘কী নিয়ে শত্রুতা, এসব কখনও বলেনি। শুধু বলত, কে কোনদিক থেকে মেরে ফেলবে, তোমরা বলতেও পারবা না। বাইরের কথা বাসায় সেভাবে আলোচনা করত না। সবসময় সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করত। খুব কমই একা চলাফেরা করত। বুধবার প্রথম হামলা হলো। এটাতেই সে শেষ হয়ে গেল।’ সুরাইয়া বেগম বলেন, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবিসহ একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। পুলিশ আরও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তে অগ্রগতির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে গতকাল শুক্রবার হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং তেজতুরি বাজার এলাকার বাসিন্দারা। বাদ জুমা কারওয়ান বাজার কাজীপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিক্ষোভকারীরা কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে মুছাব্বির হত্যার বিচার চান। এসময় নেতাকর্মীরা- ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমরা সবাই মুছাব্বির হবো, গুলি খেয়ে মরব’-এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

-সুশান্ত সাহা