নয়াপল্টনে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন স্কুলের ব্যবস্থাপকের ৪ দিনের রিমান্ড এখনো পলাতক প্রধান শিক্ষক

রাজধানীর নয়াপল্টনে ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের চার বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের মামলায় স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। জানা যায়, নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতে স্কুলে প্রি-প্লে শ্রেণির এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে শিশুটির মা রাজধানীর পল্টন থানায় শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পবিত্র কুমার বড়ুয়া নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী। এ মামলার আরেক আসামি শারমিন জাহান পলাতক আছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হলে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে রিমান্ডে পাঠান বিচারক। এ সময় বিচারক আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘আপনি তো শিক্ষক না। অ্যাডমিন অফিসার। অ্যাডমিন অফিসারের কাজ তো শাসন করা না। আপনি তাকে মেরেছেন কেন? পবিত্র কুমার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ও আরেক শিক্ষার্থীকে থুতু মেরেছিল। আমি শুধু বলেছি থুতু মেরো না। এমনিতে মারিনি।’ পরে আদালত পবিত্র কুমারকে বলেন, ‘আপনি মুখে স্ট্যাপলার দিয়েছেন কেন?’ আসামি এ অভিযোগও অস্বীকার করেন। এ ছাড়া স্কুলের কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পবিত্র কুমার বড়ুয়া চুপ ছিলেন। পরে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছে, এটা কোনো আইনের মধ্যে পড়ে না। তাই আসামি কেন তা ঘটিয়েছে, তার সঠিক কারণ জানতে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম গত শুক্রবার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ওই দিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন। গতকাল রিমান্ড শুনানির জন্য আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এই আসামিসহ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ঘটনা ঘটানোর পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই-বাছাই করে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে আনা প্রয়োজন।
-জোহা