‘প্রমাণ না হলে সাজা নেই’: গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনালের কঠোর অবস্থান

টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, “ট্রাইব্যুনাল ইজ কোয়াইট স্ট্রিক্ট (ট্রাইব্যুনাল বেশ কঠোর)। এখানে অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে কোনো সাজা হবে না, আসামিরা খালাস পাবেন।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের রিভিউ শুনানিকালে এই মন্তব্য করেন।
শুনানি ও রিভিউ আবেদন খারিজ: এদিন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী তাবারক হোসেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীরা যখন গুম হয়েছিলেন, তখন তার মক্কেলরা দায়িত্বে ছিলেন না। পর্যাপ্ত প্রাথমিক প্রমাণ (প্রাইমা ফেসি) ছাড়াই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধের উপাদান পাওয়া গেছে, যা প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।” ট্রাইব্যুনাল আরও স্পষ্ট করেন যে, টিএফআই সেল একটি ধারণা মাত্র কি না, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় (ট্রায়াল) নির্ধারিত হবে। নতুন কোনো জোরালো যুক্তি না থাকায় আইনজীবীর রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত।
মামলার পটভূমি ও আসামিদের তালিকা: গত ২৩ ডিসেম্বর এ মামলায় ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।
গ্রেপ্তারকৃত ১০ আসামি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কামরুল হাসান ও মাহাবুব আলম; কর্নেল কেএম আজাদ, আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান ও মশিউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও সারওয়ার বিন কাশেম।
পলাতক ৭ আসামি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি খুরশীদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম।
লামিয়া আক্তার