বিএনপি-জামায়াতে ভাগ হলো প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ) নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার পাল্টাপাল্টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং নতুন কমিটির সভাপতি কানিজ মওলা ও মহাসচিব বাবুল মিঞা। নতুন কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি সংগঠনের প্যাডে দেওয়া হয়নি। শুধু হাতে লেখা সাদা কাগজে নতুন সভাপতি, মহাসচিবসহ চারজন স্বাক্ষর করেন।

নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি সত্য নয় বলে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব। নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা গত রোববার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন কমিটি গঠন-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে নতুন কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএএসএর জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অবশিষ্ট সদস্যদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি দেশের আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর দুদিন পর বদলির আদেশটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বদলি বাতিলের ঘটনায় বিএএসএ সভাপতি জড়িত– এমন সন্দেহে সংগঠনটিতে বিভক্তি দেখা গেছে।

নতুন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। মহাসচিব হয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব বাবুল মিঞা। সহসভাপতি হয়েছেন খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বর্তমান ও নতুন কমিটির সভাপতি, মহাসচিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।

জানা যায়, বদলি আদেশ হওয়া ইউএনওদের মধ্যে ছিলেন কলমাকান্দার মাসুদুর রহমান। কলমাকান্দার লেংগুড়া বাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের ভাই পারভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলছিলেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, ‘এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইলকোর্ট করতে হলে আমাকে বলতে হবে।’ এ ঘটনায় পরদিন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর এক দিন পর গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দার ইউএনওকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করে। এভাবে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আট ইউএনওকে বদলি করা হয়। এই বদলি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও জড়িয়ে পড়েন। ফলে বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন।

-মেহেরীন//