ভারতের প্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবেরকোন্ডা তার আসন্ন ছবির নাম প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নির্মাতারা জানিয়েছেন, ছবিটির নাম ‘রানাবালি’। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে ছবিটির মুক্তির তারিখও। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ছবিটি পরিচালনা করছেন রাহুল সাংকৃত্যন, যিনি আগেও বিজয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রাশ্মিকা মান্দান্না। ছবিটি চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ১৯ শতকের ভারতকে পটভূমি করে নির্মিত ‘রানাবালি’–এর গল্প ১৮৫৪ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও ফুটিয়ে তোলে।
বিজয় দেবেরকোন্ডা এই ছবিতে রানাবালি চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন এক রুক্ষ, শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী রূপে, যা তার আগের লুকের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই চরিত্রে তিনি দর্শকদের চোখে পড়ার মতো এক নতুন অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করবেন। পরিচালক রাহুল সাংকৃত্যনের সঙ্গে বিজয়ের পূর্বের কাজ ট্যাক্সিওয়ালা–তে তাদের সংযোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। এই নতুন ছবিতেও তাদের সহযোগিতা আবার নতুন মাত্রা যোগ করবে।
রাশ্মিকা মান্দান্না অভিনয় করেছেন জয়াম্মা চরিত্রে, যিনি গল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অভিনেতা আর্নল্ড ভস্লু–কে দেখা যাবে ব্রিটিশ অফিসার সার থিওডোর হেক্টর চরিত্রে, যিনি ছবির প্রধান ভিলেন। তার উপস্থিতি গল্পে উত্তেজনা এবং সংঘাতের মাত্রা বাড়াচ্ছে।
ডিয়ার কমরেড ও খুশি ছবির পর এটি বিজয় দেবেরকোন্ডা এবং মিথ্রি মুভি মেকার্সের তৃতীয় সহযোগী কাজ। এর ফলে ছবিটি শুধু বড় আকারের প্রযোজনার নয়, বরং দর্শকপ্রিয় জুটি পুনরায় বড় পর্দায় ফিরছে। বিজয় ও রাশ্মিকার আগে গীতা গোবিন্দম ও ডিয়ার কমরেড–এ তাদের অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল এবং তাদের জুটির কেমিস্ট্রি এবারও দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবিটি টি-সিরিজের ব্যানারে উপস্থাপিত হচ্ছে। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন জনপ্রিয় সুরকার জুটি অজয়-অতুল, যারা এর আগে অনেক হিট সিনেমার সঙ্গীত উপহার দিয়েছেন। তাদের সুরের মাধ্যমে ছবির অ্যাকশন ও আবেগকে আরও প্রভাবশালী করা হবে।
এছাড়া ছবির প্রযোজনা মানেও নজর কেড়েছে। ১৯ শতকের ভারতীয় ইতিহাসকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শকরা দেখতে পাবেন ঐ সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট। বিজয়ের চরিত্র রুক্ষ হলেও গল্পের মধ্যে তার মানবিক দিক এবং সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি থাকবে, যা দর্শককে আবেগের সঙ্গে যুক্ত করবে।
এছাড়াও, ছবিতে ব্যবহৃত কস্টিউম, লোকেশন এবং সেট ডিজাইন দর্শকদের ১৯ শতকের ভারতে ফিরিয়ে দেবে। আন্তর্জাতিক অভিনেতা আর্নল্ড ভস্লুর উপস্থিতি গল্পের আন্তর্জাতিক দিক আরও দৃঢ় করেছে। গল্পে তার চরিত্র নায়কদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং দর্শকদের উত্তেজনা বজায় রাখবে।
‘রানাবালি’ কেবল একটি অ্যাকশন–ড্রামা নয়, বরং ইতিহাস, প্রেম, সংঘাত এবং নায়কের সংগ্রামের এক পূর্ণাঙ্গ সমন্বয়। বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রাশ্মিকা মান্দান্নার জুটি, রাহুল সাংকৃত্যনের পরিচালনা, অজয়-অতুলের সঙ্গীত এবং মিথ্রি মুভি মেকার্সের প্রযোজনার সমন্বয় ছবিটিকে এই বছরের বড় এক বিনোদন হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করছে।
বিথী রানী মণ্ডল/










